অভাবের সংসারে বেড়ে উঠা জ্যেষ্ঠ পুত্র আমি,
জীবনটা যেন জন্মলগ্ন থেকেই দুঃখের এক কাব্য কাহিনী,
ছিলো জীবন আমার পূর্ব হতেই দেওয়া জোড়াতালি।
এই বৈষম্যময় পৃথিবীতে আমার অপরাধ ছিলো কেবল স্বপ্ন দেখা,
অপরাধ ছিলো, তোমাকে ভালোবাসা।
আর তুমিও দিয়েছিলে তাতে নির্মমতম সাজা।
জানি না, প্রতিত্তোরে তুমি পেয়েছিলে কি তৃপ্তি?
পেলে কতজোড়া হাতের করতালি?
শুধু একটু সময়, সামান্য সঙ্গ ছাড়া চায় নি হৃদয় বেশিকিছু,
তোমার দৃষ্টির দীপ্তিতে বাঁচতে গিয়েই হারালাম কতো কিছু,
ফিরিয়ে দেবার পরেও অগণিনবার নিলাম তোমারই পিছু।
তোমার প্রেমের অনুগ্রহ চেয়েছিলাম ভিক্ষুকের মতো,
আর নিজেকে বানিয়েছিলাম দেখো কতো নিচু।
তবু তোমার করুণার আলো পড়লো না আমার ক্লান্ত প্রাণে।
ভাঙাচোরা জীবনের ধ্বংসাবশেষে তাকিয়েও দেখালে না বিন্দুমাত্র মায়া,
দিলে না ক্লান্তির তৃপ্তি হিসেবে এ হৃদয়কে তোমার প্রেম-ছায়া।
তুমি চাও নি ভালোবাসি, তবু ভালোবেসেছিলাম,
আমি চেয়েছিলাম ভালোবাসো, তবুও প্রেম নাহি পেলাম।
মাটিরই তৈরি দুজন মানুষ আমরা,
একই কলমে লিখা ভাগ্যে কেন এত ব্যবধান?
তুমি না চাইলেও আমি তোমাকেই চাইতে থাকি,
এই প্রেম কেন করেছে আমাকে এতো বোকা, এতো নাদান?