পার্থক্য
খোদার দুনিয়াতে সবকিছুই সমানভাবে বন্টিত,
পূর্ণতা কিংবা শূন্যতা সমানভাবে জমিনে বিছিয়ে দেওয়া।
শুধু সৃষ্টির নিয়ন্ত্রণ রাখতে ভাগে কম-বেশি হয়।
একদিকে কেউ সঙ্গীর প্রতি অনীহাতে ছেড়ে যায়,
ছেড়ে গিয়েও তার নতুন সঙ্গী হয়, হয় সে পূর্ণ।
অন্যদিকে কেউ সঙ্গীকে চায়, তবুও পায় না ঠাঁই,
চলে যাওয়া সঙ্গীর অভাবে তার জীবন থেকে যায় শূন্য।
আকাঙ্ক্ষা
দৃষ্টি আলো দেখবে যতোদিন,
তোমাকে দেখার সাধ আমার ফুরোবে না।
গলায় স্বর থাকবে যতোদিন,
তোমাকে বলার সাধও মিটবে না।
আমার দেহে প্রাণ আছে যতোদিন,
তোমার সাথে মিলনের আকাঙ্ক্ষা শেষ হবে না।
যদিও আমি জানি, তুমি আমার হতে চাও না।
তুমি তখন যতোটা না ভালোবাসা দেখিয়েছিলে,
আজ তার চেয়েও বেশি তোমার দূরে যাবার বাহানা।
অভিনয় - ৫
বেঁচে থাকতে মানুষের মধ্যে যতো হিংসা, বিদ্বেষ,
বিপরীতের মানুষকে ঠকানোর জন্য যতো পায়তারা।
অথচ বিপরীতের মানুষ যখন কাফনে জড়িয়ে যায়,
তখন আবার সে ঠকিয়ে যাওয়া মানুষটাও দরদ দেখায়।
হায় মানুষ, আমি বুঝি না!
আমি বুঝি না, এমন অভিনয়ের বিনিময়ে কি পায় তারা?
ভালোবাসার প্রতি অভিযোগ
ভালোবাসার প্রতি আমার অভিযোগ,
খুব অভিযোগ, বলতে পারো এক আকাশ সমান।
তুমি বলেছিলে, তুমি আমাকে ভালোবাসো,
বলেছিলে, চিরদিন ভালোবেসে আবার হয়ে রবে,
বলেছিলে, সুখ-দুঃখ ভাগ করে জীবন কাটাবে।
সুখের দিনে তুমি থেকেছিলে তো ঠিকই,
তবে আগুনের দিনে আমি তোমাকে পাই নি।
আমার বুক ফাটানো আর্তনাদেও তোমার মায়া হয় নি।
এরপর আমি আর ভালোবাসাকে বিশ্বাস করি কিভাবে?
অতৃপ্ত আত্মা
ঠিক কতোটা দুঃখ দিয়েছো তুমি আমাকে?
তা হয়তো পরিমাপ করে বলতে পারবো না।
কিন্তু জেনে রাখো, যদি আমি পারতাম,
তোমাকে ছাড়া একদিনও ঠিকভাবে বাঁচতে,
আমি তোমার দিকে এরপর ফিরেও তাকাতাম না।
তোমাকে ছাড়াই পুরো জীবন হেসে কাটাতাম।
ঠিক এতোটাই আমার আত্মা অতৃপ্ত তোমার প্রতি।
অপ্রয়োজনীয় দান
অপ্রয়োজনীয় দানে মানুষ খুব বেশিই পারদর্শী।
যখন কেউ সুখে থাকে,
তখনই তার আশেপাশের মানুষ সুখের বরাত নিয়ে আসে।
অথচ সে ইতিমধ্যেই সুখে আছে,
তার আর সুখের প্রয়োজন ছিলো না।
আর যখন কেউ দুঃখে থাকে,
মানুষ বেছে বেছে তাকেই আরও দুঃখ দেয়।
অথচ সে ইতিমধ্যেই দুঃখে ছিলো,
তার নতুন কোন দুঃখের প্রয়োজন ছিলো না।
অন্তিম মৃত্যু
মানুষ বেঁচে থেকেও যেমন মরে যায়,
মরে যায় সচল শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া দেহ রেখেই রুহ।
তেমন মানুষ মরে গিয়েও বেঁচেও থাকে,
বেঁচে থাকে অন্য মানুষের স্মৃতিতে।
আর যখন মানুষ মৃত মানুষটির স্মৃতিও ভুলে যায়,
মূলত প্রকৃত, অন্তিম মৃত্যু সেটাই।
প্রলোভন
তুমি আমার হৃদয়কে কি এমন প্রলোভন দেখিয়েছিলে?
আমার হৃদয়টাও আজ আমার নিয়ন্ত্রণে নেই প্রিয়তমা!
আমার দৃষ্টিসীমাতে আমি যতোটুকু দেখেছি আজ অব্ধি,
আমার হৃদয়কে তুমি তার চেয়েও বেশি দুঃখ দিয়েছো।
তবুও সে শুধু তোমার জন্যেই কাঁদে,
শুধু তোমাকেই চাইতে থাকে।
খেলাঘর
দিলে তো সেই দুঃখই!
তবে কি প্রয়োজন ছিলো এতো যত্নের,
কি প্রয়োজন ছিলো ভালোবাসা দেখানোর?
যে খেলার ঘর ভেঙেই দিবে,
তা এতো আদরে গড়ারই বা কি প্রয়োজন ছিলো?
দুঃখ
আমি কোনকিছুই হারাইতে চাই নাই,
তবুও হারাইতে হারাইতে সব হারাইলাম!
হারাইলাম আমার শৈশব, কৈশোর,
হারাইলাম আমার স্কুলের দিনগুলো,
কিংবা আব্বা-আম্মার সাথে সময় কাটানোর বয়স।
হারাইলাম তোমার মাঝে নিজেরে,
এরপর তোমারেও হারাইলাম,
তোমারে হারানোর পর হারাইলাম সুখ।
তবুও একটা জিনিস আমার সাথে লাইগাই আছে,
যা আমি শতবার চাইয়াও হারাইতে পারলাম না।
ঐটা কি জানো? দুঃখ।