পছন্দের খেলনা
তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
দুনিয়াতে এতোকিছু থাকতে আমার হৃদয়কেই কেন?
কেনই বা আমাকে খেলার ছলে ভাঙলে?
সে উত্তর দিয়েছিলো,
তোমার কাছে অনেকগুলো খেলনা আছে,
এবং একটা খেলনা তোমার ভীষণ পছন্দের।
তুমি অবশ্যই তোমার পছন্দের খেলনাটা দিয়েই খেলবে?
বিভ্রম
তারা বলেছিলো, ভালোবাসলে নত হতে হয়।
তারাই পূর্ণতা পায় অবশেষে, যারা করতে পারে নম।
অথচ আমি দেখলাম,
যে ছেড়ে যাবার সে ছেড়ে যাবেই,
তা তুমি যতোই ভালোবাসো আর গুরুত্ব দাও তাকে।
মানুষের বলা ওইসব নীতিকথা শুধুই বিভ্রম।
যে পাখি উত্তম নীড়ের খোঁজে
যে আমাকে এড়িয়ে গিয়েও সুখ অনুভব করে,
তাকে বিরক্ত করার অধিকার আমার নেই।
যে পাখি আমার থেকে লুকিয়ে বেড়ায়,
আমার বুঝতে হবে,
সে অন্যকোথাও আরও উত্তম নীড় খোঁজে পেয়েছে।
তাকে সে নীড়ে যেতে বাঁধা দেওয়ার অধিকার নেই,
অধিকার নেই আমার তাকে জোর করে বেঁধে রাখার।
মায়া বনাম মোহ
কতো দীর্ঘস্থায়ী, কতো বিধ্বংসী হয় মানুষের মায়া,
তোমার মায়ায় না পড়লে আমি বুঝতাম না।
কতোটা ক্ষণস্থায়ী হয় মানুষ মোহ,
আমার প্রতি তোমার মোহ না কেটে গেলে,
আমাকে ছেড়ে না গেলে এটাও বুঝতাম না।
দুঃসময়
বুকে বইছিলো যখন বিনাশকারী ঝড়,
যখন জীবনের সমুদ্রে বইছিলো তুমুল ঢেউ।
খোবায়েব তোর মনে থাকবে তো?
দুঃসময়ে তোর পাশে থাকে নি কেউ।
তুমি আমার
আমার প্রতি তোমার যতোটা অবজ্ঞা,
ততোটা হিংসা একটা শকুনের উপর মৃত গরুর আত্মারও নেই।
অথচ তুমি যখন আমার সামনে এসে দাঁড়াও,
আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসো।
আমার মনে হয়, তুমি সম্পূর্ণই আমার।
প্রেমের কিয়ামত
যখন পৃথিবীতে আর একজনও বিশ্বাসী ব্যক্তি খোঁজে পাওয়া যাবে না,
তখন সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠবে।
এরপর আর কারো কোনও দোয়াই কবুল হবে না।
তারপর? ধ্বংস, কিয়ামত!
তথা তোমার প্রতি আমার ভালোবাসার শেষ বিন্দুটি যেদিন ফুরোবে,
সেদিন আমি তোমার আকাশে উল্টোদিকে উঠবো।
এরপর তোমার আর কোন অনুনয়েও আমি ফিরবো না।
তারপর? প্রেমের ধ্বংস, প্রেমের কিয়ামত।
শব্দহীন ব্যথা
যে চিৎকার করতে পারে,
মানুষ ভাবে তার ব্যথার তীব্রতা বেশি।
অথচ শব্দহীন ব্যথা যে ভেতরটা গুড়িয়ে দেয়,
তার খবর কেউ জানে না, কেউ রাখে না।
আমাদের কি দোষ
এতোটা চাওয়ার পরেও তাদের পাওয়া হয় না,
এরপরও তাদের নিয়ে ভাবতে থাকি পুরো জীবন।
যে সত্তা তাদের ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত হয়ে যায়,
অথচ তারা আমাদের নামটা অব্দি মনে রাখে না।
তাদের আচরণ-ভঙ্গী এমন হয় যে,
এই নামের কাউকে তারা কখনো জানতোই না।
যদি আসলেই এভাবে ভুলে যাওয়া যায়,
তবে আমাদের কি দোষ? আমরা কেন পারি না?
স্বার্থান্বেষী রূপ
হিরে দিয়েই হিরে কাটতে হয়,
তুমি এই ব্যাপারটা খুব ভালোভাবেই রপ্ত করেছিলে।
আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম,
আর তুমিও অবিশ্বাসীদের মতো অভিনয় করেছিলে।
অথচ শেষবেলায় দেখালে তোমার স্বার্থান্বেষী রূপ আসল।
তোমার উপর বিশ্বাস রেখেছিলো যে হৃদয়,
তুমিও সে হৃদয় ভঙ্গে হলে অবশেষে সফল।