তোমাকে পেলে
বিধ্বস্ত কোন স্থাপনার নিচে আঁটকে যাবার পরেও —
বেঁচে থাকা শেষ মানুষটির মতো আমি।
আমি এখনো ভাবছি,
আমাকে এখান থেকে উদ্ধার করা হবে, তুমি আসবে।
ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে ফিরলে যতোটা উৎফুল্ল হতো সে ব্যক্তি,
তোমাকে পেলে আমিও ততোটাই আহ্লাদিত হতাম।
প্রিয় বদ-অভ্যাস
আমার স্থান সেখানে, যা তুমি অবহেলা করো,
হয়তো তোমার অপ্রিয়তার চূড়ায় আমার বাস।
এদিকে তুমি আমার প্রিয়তার শীর্ষে,
তোমাকে ভালোবাসা তো আমার প্রিয় বদ-অভ্যাস।
যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি
আমি বলি, তুমি ছেড়ে যাবার পর আমার মন নেই।
তবুও তোমাকে মনে পড়ে,
তোমাকে বলতে ইচ্ছে হয়, শুনতে ইচ্ছে হয়।
অথচ তোমার মনে করবার মতো মন আছে,
তবুও আমাকে মনে করতে পারো না।
তোমার সে মন পুনরায় অন্য কাউকে দিয়েছো,
আর আমি নিরব দর্শক হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখি।
এই অনুভূতিটা যন্ত্রণাদায়ক,
ঠিক যেন বুকে পাহাড় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্যাখ্যাহীন জীবন
সূর্যাস্ত যাচ্ছে, ফের সূর্যোদয় হচ্ছে,
সময় সময়ের মতোই যাচ্ছে।
জীবন যতো গোছাতে চাচ্ছি,
ক্রমশ এলোমেলোই হচ্ছে।
নিজের সাথে কি হচ্ছে, কেন হচ্ছে,
কবে শেষ হবে এই উতালপাতাল ঢেউ!
এর কোন উত্তর, ব্যাখ্যা খোঁজে পাই না আমি।
রুহের চিৎকার
তুমি চলে যেতে চেয়েছো,
আর আমি তোমাকে ফেরাতে চেয়েছি।
এরপরও তুমি থেকে তো গেলেই না,
বরং আঘাতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিলে।
যে আঘাতের যন্ত্রণা পৌঁছে গেছে রুহ অব্দি।
আজ রুহটা যেন চিৎকার করে বলছে,
“আমাকে যন্ত্রণা দিতে তুই এই কাকে ভালোবাসলি?
কি অপরাধ করেছিলাম তোর কাছে ভাই?
তোর উপর লানত খোবায়েব!”
আলাদা আলাদা সত্তা
আমি যদি ভুল করি,
তুমি আমাকে শোধরাতে বলতে পারো।
তবে আমাকে পরিবর্তন হতে চাপ দিতে পারো না।
হয়তো আমার আচরণ স্বভাব তোমার মন মতো না,
এবং এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়।
প্রত্যেক মানুষের কথা, কর্ম, ভুল, ইচ্ছা, স্বপ্ন থাকে,
এইসব অন্যের থেকে আলাদা হয়।
আর এই সুক্ষ্ম ব্যবধানগুলোই প্রত্যেকের আলাদা স্বাক্ষর।
এখন যদি আমি শোধরাবার পরিবর্তে বদলে যাই,
তবে আমার ভেতরের এই আমিটা কি বেঁচে থাকবো?
বেঁচে থাকবে আমার অদ্বিতীয় সত্তা?
ভালোবাসতে হবে
হয়তো শুরুটা তোমার সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে হয় নি,
হয়তো আমি তোমার ব্যক্তিত্বেও অবগত ছিলাম না,
এমনকি আমি জানতাম না, তোমার দোষ কিংবা গুণ।
কিন্তু আমার হৃদয় বলেছিলো,
তোমাকে ভালোবাসা যায়, তোমাকে ভালোবাসতে হবে।
এরপর তোমার থেকে সুন্দর কাউকে দেখি নি,
তোমার মতো ব্যক্তিত্বের কাউকেও জানা হয় নি,
এমনকি তোমার মতো চতুর্দিক পরিপূর্ণ গুণবতী কাউকেও না।
ব্যর্থ নাকি সফল
আমি তো ব্যর্থই, ব্যর্থকে কি হারানো যায়?
আবার আমি ব্যর্থ বলেই নিজেকে ব্যর্থ বানাতে সফল।
যে ইতিমধ্যেই নিজেকে ধ্বংস করতে সফল,
তার পাশে দাঁড়িয়ে কৃতিত্ব নেবার কি প্রয়োজন আছে?
অযত্নের পুষ্পবৃক্ষ
অতঃপর আমার আর যত্নের প্রয়োজন নেই,
প্রয়োজন নেই কারো ভালোবাসার।
যত্ন, ভালোবাসাতে আমার বড্ড ভয়,
কারণ আমি অযত্নে, অবহেলায় খুব করে অভ্যস্ত।
কেউ আমার যত্ন নিতে আসলে আমার কেবল মনে হয়,
অযত্নে যে পুষ্পবৃক্ষ যেখানে-সেখানে বেড়ে উঠে,
সে বৃক্ষ যত্নের ইচ্ছায় যদি কেউ সাথে নিয়ে যায় —
এরপর যতো যত্নই করুক, সে বৃক্ষ আর বাঁচে না।
নিরবতা
কাউকে বুঝাতে যেয়ে সর্বোচ্চ বাকশক্তির ব্যবহার করেও —
যখন মানুষ তাকে বুঝাতে অক্ষম থেকে যায়।
তখন মানুষ অনুভব করে ফেলে,
এখানে বুঝানোর মতো আর কিছুই নেই।
এরপর সে নিরবতাকেই জবাব হিসেবে বেছে নেয়।