দেখতে দেখতে কেটে যাচ্ছে, হায়াতে ছিলো যে ক’টা দিন।
ভেবে যাই প্রতিক্ষণ, মিটাবো কিভাবে অসামান্য এ ঋণ?
কোন উদ্দেশ্যে পাঠালে, হে প্রভু!
আর আমি করছি দেখো কি যা-তা।
তুমি চেয়েছিলে মুখে থাকুক তোমার জিকির,
আমি শিখছি লাভ-লোকসানের নামতা।
আমাদের স্বভাব হয়ে গেছে অকৃতজ্ঞ,
ভাবি যৌবন শুধু উপভোগ্য রোজগারে।
খোদার নাম, আমল-পুণ্য করবো বৃদ্ধকালে,
ভুলেছি দুনিয়ার মোহে, বেঁধেছি নিজেকে পাপের জালে।
ভুলেছি, মালাকুল মওত জোয়ান-বুড়ো খোঁজে না,
এসে পড়ে না জানিয়েই যেকোন কালে।
আসার বেলায় পালাক্রম চলে,
যাবার বেলায় পালাক্রম ভেঙে হঠাৎই ডাক আসতে পারে।
দেখেছি শিশুকালেই স্বয়ং,
পিতামহের পিতার পূর্বেই পিতামহের পরপারে যাত্রা।
তবু কিসের মোহে ভাবি আমি,
বৃদ্ধ হবো আগে, তারপর করবো আমল?
ভুল বিশ্বাসেরও থাকা উচিত এক নির্ধারিত মাত্রা।
সমবয়সী বন্ধুর কবরের এফিটাফও এতোদিনে গেছে মুছে,
তবু ভাবি, কাল থেকে প্রভুকে ডাকবো,
এ ভাবনা কেবল শয়তানেরই ধ্বংসের ছল মিছে।
কাল কেবলই এক ভ্রান্তির নাম,
আজ থেকে শুরু না করলে, কাল আসবে না কোন কস্মিনকালে।
ওরে মন! এবার অন্তত মেনে নাও,
মেনে নাও, তোমার বোধের বাইরে মৃত্যুর ক্ষণ।
আজ থেকেই প্রভুর নামে গড়ো পরকালের রোজগার,
করো হে মন, শক্ত মনে সত্য পণ।