কবিতাঃ কর্পোরেট চাকর

খুঁজতে এলাম ভবিষ্যতের আলো,
অতল দৃষ্টিতে দেখলাম, বহির্জগৎ অতিশয় কালো।
ত্যাগ করলাম গৃহ, ত্যাগ করলাম পরিচিত শহর,
স্বাধীন মুক্ত পাখি হতে চেয়েছিলাম, হলাম কর্পোরেট চাকর।

এরপর মেলে না মায়ের হাতের অমৃত সে আহার,
জ্বরে জ্বললে মা দিতেন স্নেহমাখা জলপট্টি,
উপরে তাকালে দেখতে পেতাম মায়ের অপরূপ মুখখানি,
তা তো দেখার ভাগ্য হয় না এই অভাগার আর।
আজ নিজের ঘরেই আমি যেন অপরিচিত মেহমান,
সাপ্তাহিক ছুটির নিঃসঙ্গ বিকেলের সঙ্গী শুধু এ বিশাল, নির্বাক আসমান।
দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করি শত অপমান,
কানে বাজে তাচ্ছিল্যের ভাষা,
অর্থ দিয়ে কাজে নিয়েছি, চাকরের আবার কিসের সম্মান?

তবুও তৃপ্তি আছে, আছে সার্থকতার মহিমা।
সে সার্থকতা পরিবারের হাসিমুখ,
যেন অদৃশ্য দীপশিখায় জ্বলে আমার অন্ধকার দেহের সুখ।
পুত্র হয়ে জন্মের ক্ষণেই স্বাক্ষর করেছিলাম সেই গোপন নথিপত্রে,
যেখানে লিখা ছিল, অন্যের আনন্দেই লুকানো পুত্র মানুষের প্রকৃত সুখ।

যতদিন প্রাণ টিকে থাকবে এ দেহে, দিয়ে যাবো তবুও,
প্রিয় পরিবার, বিনিময় হিসেবে চাইবো,
তোমরা ভুলো না আমার এই নিঃশব্দ ত্যাগ,
ভুলো না আমাকে শুধু।

- কর্পোরেট চাকর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন