তুমি পূর্ণতার নীলে সাঁতার কাটো,
আর আমি তোমার অনুপস্থিতির ভার বই।
দুজন মিলে ঠকালাম কেবল আমাকেই,
তুমি আমার নও, আমিও নিজের নই।
তোমার জীবন থেকে হারালাম আমি,
যেমন ছিঁটকে পড়ে খোলা থেকে তা দেওয়া ধানের খই।
এই যে যন্ত্রণা, বলতে পারো লজ্জাও বটে,
বলো আমি কার কাছে, কেমন করে এ ব্যথার কথা কই?
তুমি ভাবো নি, তোমার বিদায় কেমন করে শুষে নেবে আমার ভবিষ্যৎ।
আমি ভেবেছিলাম,
তোমার কাছেই রাখবো সমস্ত দহনের নালিশ,
ভেবেছিলাম, তুমিই আমার চূড়ান্ত আদালত।
অন্যের হয়ে গেলে, দিলে অনন্ত দহন।
যে ব্যথা স্বয়ং তুমি দিলে, তা আর কার কাছে বলবো?
আমি দেখি না এর কোনো বিকল্প প্রতিষেধক, কোনো ঔষধ।
তোমার বুকে মাথা রাখে যে পুরুষ, সেও জানে না,
কেউ একজন সেখানে মাথা রাখার স্বপ্ন দেখতে গিয়ে বানিয়ে ফেলছে নিজের বুকেই খরা।
গভীর রজনীতে তোমার শরীরে তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলে যে পুরুষ, সে জানে না,
একই সময়ে দেয়ালের ওপারে আরেক পুরুষের চোখে নেমে আসে কান্নার ধারা।
যখন কল্পনায় ফিরে আসে তোমাদের মিলনের ক্ষণগুলো,
আমি অনুভব করি,
আমার ভেতরের দানব আমার মস্তিষ্ককে চিবিয়ে খাচ্ছে,
এরপর হৃদয়ও খাবে বলে করছে পায়তারা।
অতঃপর আজ আমি অসহায়, বিপর্যস্ত, শূন্যতার আবেশে ডুবে আছি,
হয়ে গেছি তোমার অভাবে ভয়াবহভাবে একা।
খোদার বিশাল দুনিয়ায় কতো মানুষ,
তবু যখন মনে পড়ে, তুমি আমার নও,
তোমার অভাবেই মনে হয়,
এই বিশাল পৃথিবীটাও যেন শূন্য, বড্ড ফাঁকা।