ধরো, ফের দেখা হলো, দেখা হলো বহু বছর পরে।
দেখা হলো শহুরে কোন ব্যস্ত রাস্তায়,
কিংবা গ্রামের কোন মেঠোপথের ধারে।
ধরো দেখা হলো কোনদিন বেলা শেষে, গোধূলি-বেলায়,
যখন ক্লান্ত পাখিরাও ফিরছিলো তাদের নীড়ে।
তখন তোমার মুখ দেখে মনে পড়লো,
তুমিও ছিলে একদিন আমার প্রার্থিত সুখ,
আমার আশ্রয়, আমার ঘর।
আমি আনমনে ভাবছিলাম,
তুমি আজ কতোটা প্রশান্ত, কতোটা সুখী।
আর তুমি হয়তো ভাবছো,
উনি এভাবে তাকাচ্ছেন কেন বারবার,
এ পুরুষ তো আমার পর।
ফেরার তাগিদে আরও কিছু পথ আমরা এগিয়ে এলাম মুখোমুখি।
হয়তো তোমারও মনে পড়বে তখন,
এই তো সেই পুরুষ, যে একদিন ভালোবাসতো আমাকে।
যাকে ফেলে গিয়েছিলাম একদিন নীরবে,
না জানিয়েই, শুধু হবো বলে সুখী।
লজ্জায় মুখ ঢাকবে হয়তো, চিনে ফেলি না আমি যেন।
ভয় থাকবে তোমার চোখে, যদি হঠাৎ জিজ্ঞেস করি,
আমার অযোগ্যতাকে অজ্ঞাত রেখেই অন্যের হলে কেন?
আমার দিবাস্বপ্ন হঠাৎ ভেঙে যাবে,
ভেঙে যাবে তোমার কোলের শিশুর ক্রন্দনে।
যে ক্রন্দনই সাক্ষী,
তুমি আজ আবদ্ধ অন্যের সাথে এক চিরসত্য বন্ধনে।
তোমার স্বামী ডাকবে তখন, কই আসছো না কেন?
তুমিও হকচকিয়ে উঠবে, পাশ কাটিয়ে চলে যাবে নীরবে।
আর আমিও তাকিয়ে দেখবো তোমার চলে যাওয়া,
যেমন শেষবার বিকেলে তুমি আসবে বলে বিদায় নিয়েছিলে।
কিন্তু এলে আজ, অন্যের হয়েই একেবারে অতঃপর।
আমি ভাববো, জিজ্ঞেস করি কিছু কথা।
তবুও প্রশ্নগুলো রেখে দিবো অনুচ্চারিত,
তোমার সংসারের প্রতি আমার সম্মানে আসবে না সেগুলো সরবে।
আমি তখন শুধু ভাববো নিঃশব্দে,
মানুষটা আমার থাকতে থাকতেই অন্য কারো হয়ে গেলো,
অথচ গল্পের প্রেমিকাদের মতো বিদায়ও নিলো না।
সে ভেবেছিলো, আজ সম্পূর্ণই সে অন্যের,
অথচ আমার কাছে রেখে গেছে নিজের কিছু অংশ,
যা সে নিজেও জানে না, টেরও পায় না।
কোন চাপে, কোন অজানায় দায়ে সে অন্যের হলো,
নাকি ইচ্ছাকৃতই আমাকে ঠকালো?
এই প্রশ্নের উত্তর আমার আজও জানা হলো না।
আমি খুঁজে পাই না এ গল্পের নাম,
ভাগ্য বলবো, নাকি বলবো ছল?
ঝাপসা চোখে তার প্রস্থান দেখতে দেখতে শার্টের হাতা দিয়ে চোখ মুছলাম,
দেখলাম, হাতার ভাঁজে আজ আবারও লেগে আছে জল।