ভুল বুঝা
আমি তোমাতে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলাম।
বুঝাতে চেয়েছিলাম,
থাকতে চাই আজীবন তোমাতেই বিরাজমান।
অথচ অপূর্ণতা লিখা ছিলো আমার কপালে,
তাই তুমি বুঝলে, প্রস্থানই প্রকৃত সমাধান।
সুখে থেকো
আমি তোমাকে ভালোবাসি,
তাই তোমার অমঙ্গল কখনোই চাইবো না।
তুমি সুখের সর্বোচ্চ স্তরেই থেকো,
এবং তা যদি হয় আমাকে ছাড়া, তবুও।
আমার মানুষ
তুমি আমার,
এই পরিচয়ে যতো পারো দুঃখ দাও।
আমি সব সইবো এই ভেবে,
দুঃখ দেওয়া মানুষটা তো আমারই।
কিন্তু অন্যকারো সাথে দেখার মতো দুঃখ দিও না,
এই দুঃখ সহ্য করার ক্ষমতা আমি রাখি না।
সুখ দিয়ে দুঃখ কেনা
আমি মায়ের গর্ভে সুখেই ছিলাম,
তবে সেখানে আমার দুঃখের বড্ড অভাব ছিলো।
তাই আমি তোমাদের মাঝে এসেছিলাম,
নিজের সুখগুলোর বিনিময়ে দুঃখ নিবো বলেই।
মায়ার কারাগারে
তোমার প্রেম এমন এক অপরাধ ছিলো,
যার শাস্তি হিসেবে আমাকে দিলে যাবৎ জীবন কারাদণ্ড।
আর বন্ধি করলে মায়া নামক কারাগারে।
প্রেমিকের অপরাধ
দুনিয়াতে কতো মানুষ তোমাকে দেখার ইচ্ছে রাখে না,
তবুও তোমাকে তারা দেখতে পারে।
যাদের কাছে তুমি আলাদা কেউ নও,
অথচ আমার কাছে তুমি অনন্য, অদ্বিতীয়।
তোমাকে দেখার প্রবল তৃষ্ণায় আমার বুক ফাটে,
তবুও আমি তোমাকে একনজর দেখতে পারি না।
আমার অপরাধ কি তবে এতটুকুই?
ওরা তোমার কেউই না আর আমি তোমার প্রেমিক?
অনর্থক
কতো ছোট আমাদের হায়াতের দিন,
আর আমরাও কতো বোকা!
যে সময়টা আমাদের নিজের কাজে ব্যয় করার কথা ছিলো,
তা অন্যের পাপ মুখস্থ করতে করতেই কাটিয়ে দেই।
ব্যবধান - ৩
কতো ব্যবধান তাই না?
যাদের কেউ ভালোবাসে, তারা ভালোবাসে না।
ভালো তারাই বাসে,
যাদের ভালোবাসার মানুষ তাকে ভালোবাসে না।
অগ্রাধিকারও তারাই দেয়,
যাদের প্রিয় মানুষ তাকে বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করে না।
যাদের কেউ নিজের করে নিতে চায়,
তারা নিজেকে ঠিকই সরিয়ে নেয়।
আবার নিজেকে তারাই অন্যের কাছে সঁপে দেয়,
যাদের বিপরীতের মানুষ তার দায়িত্ব নিতে চায় না।
মা
যে মহীয়সীর গর্ভ হয়ে এসে আলো দেখলাম,
প্রভুর দুনিয়াতে আমি সবচেয়ে বেশি কষ্ট তাঁকেই দিয়েছি।
উনিও যে কিছু ফেরত দেন নি, তা কিন্তু না।
আমাকে যদি কোন মানব একবিন্দুও ভালোবাসে থাকে,
তাহলে সে মানবও তিনিই।
দাবী
তোমার প্রতি এতো মায়া রেখেও,
তোমাকে এতো ভালোবেসেও,
এতো অনুনয়ে তোমাকে চেয়েও আমি পাই নি।
আক্ষেপ হবেই না কেন?
কেনই বা তোমার প্রতি দাবী থাকবে না?