ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করা হলো,
মাকে বেশি ভালোবাসো, নাকি বউকে?
সে গর্বে মাথা তুলে বলল,
অবশ্যই তাঁকে, যিনি আমাকে তাঁর গর্ভে ধারণ করেছিলেন।
সবাই তৎক্ষণাৎ বললো,
এই অতিমাত্রার মাতৃভক্তি একদিন সংসারে বিপর্যয় ডেকে আনবে।
বাসায় ফেরার পথে ছেলেটা স্ত্রীর জন্যে কিনলো পাঁচ হাজার টাকার একখানা শাড়ি,
আর অর্থাভাবে মায়ের জন্যে কিনতে পারলো না দু’শো টাকার ঔষধ।
তবুও শাড়ী মনমতো হয় নি বলে স্ত্রীর কতো কটুকথা!
অথচ মা বলেছিলো, পয়সা না থাকলে কি আর করবে বলো?
পয়সা হলেই নিয়ে এসো তবে।
যেদিন সামর্থ্যহীনতার অভিযোগে স্ত্রী ছেড়ে চলে গেল,
বিচারসভায় উপস্থিত সবাই রায় দিল,
ছেলেটার মাতৃভক্তিতাই তার সর্বনাশের মূল কারণ।
ছেলেটা কেবল সেদিন মৃদু হাসলো।
অথচ তার মুখে ফুটে উঠল আত্ম-লজ্জা,
যেন পৃথিবীর সব রায় মিথ্যে, শুধু মায়ের নিঃশ্বাসটাই সত্য।
যা সে হারিয়ে ফেলেছে আজ,
মাতৃভক্তির নামে বাস্তব সংসারের আড়ালে।
এরপর সে নিঃশব্দে রওনা হলো,
মায়ের জানাজার উদ্দেশ্যে।