স্বান্তনা
হয় নি মিলন কে বললো?
বলেছে হৃদয়, তোমাকে পাবো কোটি বছর পর।
তাই আজ অপেক্ষা করতে বলেছে শুধু।
যদি এর আগেই মরণ এসে যায়?
এর উত্তরও দিয়েছে হৃদয়, বলেছে,
মিলনের দিনক্ষণ পাকা করাও অনেক ব্যক্তি থাকে,
মিলনের পূর্বেই যারা ইহকাল ছেড়ে যায়।
আমারও তাই হয়েছে কেবল।
অবশ্যই বেঁচে থাকলে তোমাকে পেতাম,
পেতাম কোটি বছর পর হলেও।
ভাগ্যের দৌড়
ইচ্ছে, আকাঙ্ক্ষা তো ছিলো অনেক,
তবুও অপ্রাপ্তিকেই মেনে নিলাম।
মেনে নিলাম, আমার ভাগ্যের দৌড় কোন অব্দি।
এটাও মেনে নিলাম, জোর করে কিছু হয় না।
নির্মম পরিহাস
তোমার মতো করে কখনো কাউকে চাই নি,
এরপরও তুমি আমার হলে না।
ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস দেখো,
তোমাকে পাবার জন্যে কতো কি না করলাম,
তবুও শেষমেশ তোমাকে আমি পাই নি।
হিসেবী জীবন
আটপ্রহরে ভাগ করা জীবন আমার।
এক প্রহর যদি হাসিতে কাটাই,
জীবন আমাকে আরও সাত প্রহর দুঃখে রাখে।
শোধবোধ করে নেয় আমার হাসির সাথে তার হিসেব।
আমার বেলায় জীবন বড্ড হিসেবী,
সুখের বিনিময়ে দুঃখ সময়মতোই বুঝিয়ে দেয়।
কোনপ্রকার ঋণ রাখে না।
স্বেচ্ছায় ভুল
যদি সময় তোমাকে এমন পরিস্থিতিতে দাঁড় করায় যে,
এখন তোমার দ্বিতীয়বার কাউকে ক্ষমা করতে হবে।
তবে তুমি সে মানুষকে ক্ষমা করো এবং সরে যাও।
হোক সে মানুষ তোমার যতোই প্রিয় কিংবা আপন।
তুমি যদি দ্বিতীয়বার ক্ষমার পরেও থেকে যাও,
তবে সময় তোমাকে বারবার এখানেই দাঁড় করাবে,
যখন তোমার বারবার কাউকে ক্ষমা করতে হবে।
কারণ ভুল একবারই হতে পারে,
দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বার থেকে যা হয় তা হলো,
লালসা, স্বেচ্ছাচারিতা, ছলনা, ওয়াদার বরখেলাপ।
বটবৃক্ষের জীবন
আমি কচুরিপানার মতো হতে চেয়েছিলাম।
ভেবেছিলাম, বানের জল আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে,
ভাসিয়ে নিবে কোন সুখের শহরে।
অথচ খোদা আমাকে দিলেন বটবৃক্ষের জীবন।
দুঃখের শহরে দাঁড়িয়ে নিজের দুঃখই দেখছি কেবল,
এ ছাড়া আর কোন উপায়ও নেই।
অসময়ের প্রিয়জন
যে বক পায় নি কারো সাহায্য,
যখন তার পা আঁটকে গিয়েছিলো কলে।
সে কলেই যে বক তার পা কেটে রেখে এসেছে,
তাকে বুঝাতে যেও না বিপদ কি জিনিস,
কিংবা কারা আপন, প্রিয়জন কাকে বলে।
ভালোবাসার বিনিময়
ভালোবাসা যায় কিনা তা জানি না,
তবুও হৃদয় চায় বলেই তোমাকে ভালোবাসি।
ভালোবাসার জন্য কোন শর্ত লাগে কিনা জানি না।
তবে হৃদয় যেহেতু তোমাকে বাছাই করেছে,
কোন প্রযোজ্য শর্ত থাকলেও তা হয়তো পূরণ করে ফেলেছো।
আমি জানি না এর শেষে কি আছে।
তবে সুঃখ হোক বা দুঃখ কিছু একটা তো দিবে,
কিছু একটা পাবো তার থেকে যাকে ভালোবাসি।
অন্তত ভালোবাসার বিনিময়ে অপ্রাপ্তিতে তো আর রাখবে না।
অদ্ভুত গুণ
কি অদ্ভুত গুণে গুণান্বিত আমি।
আমার না কাউকে কাছে আসার জন্য ডাকতে হয়,
না কাউকে চলে যেতে বলতে হয়।
মানুষ নিজে থেকেই আসে, ফের ছেড়ে চলে যায়।
যেমন ছেড়ে যায় যাত্রা শেষে উপকারী ট্রেনটাকেও।
বিপজ্জনক
ঝুঁকিমুক্ত জীবন চাইলে কখনো জন্মাতামই না!
যেহেতু জন্মেই গেছি সেহেতু মৃত্যু বাধ্যতামূলক।
সময় আমাকে ক্রমশই মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে,
তা আমি মৃত্যুর থেকে বাঁচার যত চেষ্টাই করি।
অতএব বিপজ্জনক বলতে কিছুই নেই,
যা আছে তা বাধ্যতামূলক।
কিংবা বিপজ্জনক বলতে যদি কিছু থাকে,
তবে জন্ম নেওয়াটাই জীবনের জন্য বিপজ্জনক।