কবিতাঃ প্রেম অথবা একনায়কতন্ত্র

সহস্র পাখির কলরব যখন একাকার হয়ে যায়,
যেখানে নির্দিষ্ট কোন কণ্ঠধ্বনি পৃথক করে ধরা যায় না,
সে অনির্ধার্য ভিড়ের মধ্যেই আমি তোমাকে বেছে নিয়েছি সমগ্র মানবকূলের অন্তঃস্থল থেকে।
যেন আমার হৃদয় কোন গোপন কক্ষে তালাবদ্ধ ছিলো,
আমাকে নিক্ষেপ করা হয়েছিলো অসংখ্য চাবির এক বিভ্রান্ত গোলকধাঁধায়।
আর আমাকে বলা হয়েছিলো, সঠিক চাবিটি বেছে নাও,
যে চাবিটি ছিলো মূলত তুমিই।

এই বিস্তীর্ণ মহাবিশ্বের নক্ষত্রবেষ্টিত শূন্যতার মাঝে,
এক ক্ষুদ্র গ্রহের অগোচরে খোলসাবদ্ধ মুক্তোর মতো তোমাকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিলো।
আর আমি তোমার অন্বেষণে তোমার পদচিহ্নের দিশা ধরে অবশেষে সেই নিভৃত দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছি।
এতদূর এসে আমি কেনই বা তোমাকে ছেড়ে দেবো?
কেনই বা বলবো, তুমি মুক্ত, যেখানে ইচ্ছে যাও।

আমি তোমার পিতৃপরিচয়ের মতো অনড়,
জন্মদাগের মতো অনিবার্য, দৃশ্যমান।
আমি তোমার সেই পরিচয়,
যাকে বিভিন্ন নামে ডাকা যায়, তবে পরিবর্তন করা যায় না।
যেমন সৃষ্টির আদিম প্রারম্ভ থেকে তাঁরও সত্তা অভিন্ন,
অথচ কেউ বলে ইশ্বর, কেউ আল্লাহ্‌, কেউ বলে ভগবান।

ভালোবাসা বলো, প্রেমিক বলো কিংবা স্বামী,
তোমার উচ্চারণের ক্ষণে চোখের দিগন্তে যে মুখচ্ছবি উদ্ভাসিত হবে,
সেটি যেন হয় অবশ্যই আমার অবয়ব।
এই দাবিতে আমি আপোসহীন, ভালোবাসলে এটুকু লোভী হলে পাপ নেই।
এবার তুমি যা ইচ্ছে ভাবো, প্রেম অথবা অবিচল একনায়কতন্ত্র।
তোমাকে আমি চাই যেকোন মূল্যে,
আর তোমার বেলায় আমার এই স্বার্থপরতাই আমার সর্বপ্রাচীন ও একমাত্র সত্য।

- কবিতাঃ প্রেম অথবা একনায়কতন্ত্র

إرسال تعليق

أحدث أقدم