ছদ্মবেশ

নিজের আত্মহনন


দিনে করি আত্মহনন, রাতে খুঁড়ি গোর!
নিজের বিনাশে আমি নিজেই বিভোর।
প্রিয়ার লাল ওড়নায় পেঁচিয়েছি নিজের গলা,
নিজ হাতেই গড়ি নিজের ধ্বংসের ফাঁদ!
আর মুখে বলছি, কাউকে খুব করে ভালোবাসি।
আহা, কেমন যেন বিষণ্ণ স্বাদ!



কর্তাদের দখলদারিত্ব


গুল্লি খেলতে খেলতে কখন যে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হলো।
ছেলেটির ভয় হচ্ছে, বাড়ি গেলে মা খুব বকবে তাই!
মা স্বপ্ন বুনতেন, ছেলে পড়া শিখে নিষ্ঠাবান হবে একদিন।
কর্তার বাড়ি ফরমায়িশ খেটে তাই খাতা-কলমের বায়না মেটান।
ছেলেটিরও জেদ ছিল প্রবল, একদিন সে নিজেই ইতিহাস হবে।
মায়ের ভয়ে হাত-মুখ ধুয়ে নিভৃতে পড়তে বসলো সে।
কিন্তু কলম হাতে নিতেই কর্তার গুলিতে ভেঙে গেলো নিব।
ওরা শব্দকে ভয় পায়, ওরা ভয় পায় কাগজে ফুটে উঠা অক্ষরকে!
কারণ ছেলেটি লিখতে শুরু করলেই তো খসে পড়বে মুখোশ,
সমাপ্ত হবে যুগের পর যুগ ধরে চলা তাদের এই অবৈধ দখলদারিত্ব।



আমার তুমি


তুমি চলে যাওয়ার পর যে তুমি রয়ে গেছে,
সে তুমিই আমার তুমি।
তোমাকে আমি হারিয়েও পেয়েছি,
কোথাও না কোথাও তুমি রয়ে গেছো।
তোমাকে পাওয়া যায় আমার ভেতরেই।
যে তুমি আমাকে ছাড়া আর কাউকে ভাবে না,
যে তোমার আমি ছাড়া আর কোন দাবিদার নেই।



ব্যঙ্গ হওয়া


একজোড়া অসহায় চোখের মধ্যে কত কথা ছিলো,
তুমি তাকিয়ে দেখো নি।
হৃদয়ের প্রতিটা স্পন্দনে কত সুপ্ত অনুভব ছিলো,
কিন্তু একবারও তুমি অনুভব করো নি!
দুঃখগুলোও বুঝে গেছে এরপর,
তাকে উপলব্ধি করবার মতো কেউ নেই।
তাই দুঃখগুলোও আজ আমাকে ব্যঙ্গ করে,
তুমি নেই এই অজুহাতে।



বিপদের হকদার


খোদা আমি অস্বীকার করতে পারি না,
তোমার ইনসাফ অবশ্যই চিন্তাশক্তির চেয়েও শ্রেষ্ঠতম।
তবে খোদা, বলো তো,
শুধু গরীবই কেন দুনিয়ার সব বিপদের হকদার?
ভাতের অভাবে কেন শুধু গরীবই পেটে পাথর বাঁধে?
চিকিৎসা হীন হয়ে কেন শুধু গরীবই মরে যায়?
ঝড়ে কেন শুধু গরীবের ঘরই উড়ে যায়?
খোদা, যখন প্লাবন হয় শুধু গরীবের গরুটাই ভেসে যায়?
নদীর ভাঙনে কেন শুধু গরীবের জমিটাই তলিয়ে যায়?



পোষা পাখি


ছিলো আমারও পাখি একটা,
বেশ ছিলো পোষা।
আকাশ দেখবে বলে পাখি,
ছেড়েছিলো বাসা।
আকাশ দেখা ছিলো মিথ্যে,
আসলে সে পোষ চিনেছে নতুন কোন ঘরে।
আমিও বোকা কম না!
ফিরবে পাখি ভেবে আমি দাঁড়িয়ে থাকি দ্বোরে।



ছদ্মবেশ


তোমারে দেখার আকাঙ্ক্ষায় আমার যত তৃষ্ণা,
তোমার অভাবে যত হৃদয় পোড়া গন্ধ।
আর আমার মুখে স্পষ্ট যন্ত্রণার ছাপ!
কিন্তু আমি তৃপ্তির মুখোশ পড়ে নিয়েছি,
যেন আমাদের রোজ সাক্ষাৎ হয়।
ছদ্মবেশে নিজের এমন এক রূপ দেখাই,
যেন তোমার আমার একটা সুন্দর সংসার আছে।
যেন আমি আমাদের সংসার নিয়ে সুখী।



স্মৃতি ভুলে নতুন মানুষের


একসাথে হাঁটতে বের হয়ে তোমার গায়ে জড়ানো আমার পুরোনো জ্যাকেটের গন্ধ।
পুরোনো জুতোর তলায় লেগে থাকা তোমার চুইংগাম।
একটা রুমাল, তোমার হস্তশিল্পে সাজানো।
একজোড়া হাত,
আঙুলের ফাঁকে তোমার আঙুলের ছাপ।
একটা বুক, যেখানে তোমার নাম লিখা।
কত বছর পেরিয়ে যাবে,
স্মৃতিগুলোরও এখানেই সীমারেখা টেনে যাবে।
নতুন কোন প্রহর আসবে না জেনেও কেউ এখানেই থেমে থাকবে।
অথচ অন্য একটা শার্টের কলারে তোমার ঠোঁটের রঙ দেখা যায়।



চিরস্থায়ী প্রেম


প্রেম, অনুভূতি আক্ষরিক অর্থেই চিরস্থায়ী হয়।
প্রেমের প্রতি কিছু ক্ষোভ, ভ্রান্তি থেকে আমিও ভাবতাম,
ভবে কোনকিছুই চিরস্থায়ী হয় না।
না প্রেম আর না মানুষ, কেউই না!
ফের ভাবতে লাগলাম,
আমি তোমাকে সেই একবার ভালোবেসেছিলাম।
এরপর তোমার থেকে কত অবহেলা পেলাম,
তোমাকে বহুদূরে হারালাম।
জানলাম তুমি ফুলরূপী ভুল!
তবুও তোমার জন্যে আমার মায়া হয়।
প্রেম চিরস্থায়ী না হলে আজও কীসের অনুভব তোমার প্রতি?



স্বার্থ পূজারী


শুধুমাত্র নিজের স্বার্থকে জেতানোর জন্যে,
একটা মূহুর্ত গোছানো দেখাতে মানুষ কত প্রতিশ্রুতি দেয়।
তারা একবারও ভাবে না,
তাদের কাছে যা স্বার্থ হাসিল,
অন্যের কাছে সেটাই জীবন-মরণ বিশ্বাসের প্রশ্ন!
এই যে সবুজতার হৃদয়টাকে এভাবে পায়ে পিষে মরুভূমি বানিয়ে দেয়,
তবুও তাদের নিজেকে দোষী অনুভব হয় না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন
DMCA.com Protection Status