কবিতাঃ মন্দ ছেলে

চুপ রহিলাম যতদিন সহিষ্ণুতা রাখিয়া বুকে,
মানুষ বলিলো, আমি নাকি মহাজ্ঞানী, মেধাবী ছেলে।
ধন্য হতো জীবন তাদের,
আমার মতো সন্তান লালন করিতে পারিলে।

যেই না আমি বলিতে শিখিলাম,
কোনটা সাদা, কোনটা অন্ধকার কালো!
তারা বলিলো, বিদ্যায় আমার মাথা গেছে বিভ্রান্তিতে,
নই আমি আর আগের মতো নির্মল ভালো।
আদব-আচারের নাকি সব গেছি ভুলে,
এমন সন্তানেরে পিতামাতা তুলেন নাই কেন এখনো শূলে?

সত্য উচ্চারণ করিলেই হই আমি নিন্দিত, মন্দ ছেলে,
অনুসন্ধান করিয়া পাই না তবু,
এর বাইরে অন্য কোন অপরাধ বা দোষের মূল।
তখনই বুঝিলাম, তাদের কাম্য কেবল তোষামোদের করতালি,
পরিবেশ যেন না হারায় কভু তাদের অনুকূল।

তাও অবশেষে জেনেছি,
সমাজের অদ্ভুত এ অলিখিত কানুন,
কর্মের তুলনায় বয়সের অবদান অধিক প্রাধান্য পায়,
তা আলোচ্য বিষয়ে আপনি জানুন কিংবা না জানুন।
যতদিন আপনি চাটুকার হইতে পারবেন তাদের মন মতো,
থাকিবেন শিরোমণি, তাদের মাথার তাজ হয়ে।
কিন্তু যদি একবার উচ্চারণ করেন প্রতিবাদের সুর,
তাহলেই আপনি মন্দ ছেলে,
আদব-শিষ্টতার খাতা যেন আপনার গেছে ক্ষয়ে।

- মন্দ ছেলে

إرسال تعليق

أحدث أقدم
DMCA.com Protection Status