দুঃখের পরিধি
তোমার চোখে যেগুলো আকাশের তারা,
আমার কাছে সেগুলো দুঃখ!
একপাশ থেকে গুনতে শুরু করলে জন্ম হতে জন্মান্তর পেরিয়ে যাবে!
তবুও তুমি গুনে শেষ করতে পারবে না।
আর আমি তা অনুভব করেও হেসে যাচ্ছি!
যত্নের লোভ
তোমার কাছে যেতে যেতে আমি ক্রমশ নির্বাক হয়ে যাই,
তোমার চোখের অতলে তাকিয়ে আমি চিরকালই অবলা।
তোমার বুকের কাছে গিয়ে যেন বাতাসে মিলিয়ে যাই!
ঠিক যেমন একটি পোষা বেড়াল!
একটু আদরের লোভে অসহায় চোখে তাকিয়ে কাচুমাচু হয়ে থাকে।
সেই মায়াভরা বোবা চাহনি!
কণ্ঠ নেই, তবু যেন অবিরত ডেকে চলেছে,
খুব যত্নে, নিবিড় মমতায় আগলে নাও আমায়।
অপূর্ণতা
তুমি আমার হও নি,
হয়তো এটা আমার অপূর্ণতা!
আমি তোমার স্মৃতি রেখে দিয়েছি,
তাই তুমিও পূর্ণ নও।
আমরা দুজনই অপূর্ণ রয়ে গেলাম।
আমি তোমার কাছে,
আর তুমি আমার স্মৃতির কাছে!
তুমি নেই আর আছো
তুমি নেই কোথাও!
নেই আমার বালিশের হেলানে,
নেই ডান-বা কোন পাশে।
তুমি নেই! খোঁজে দেখেছি তাকিয়ে আকাশে।
আছো তবুও আমার দীর্ঘশ্বাসে!
আরও আছো বুকের ভেতর,
আছো আরও তুমি আমার আশীর্বাদে।
কীভাবে ভুলে যাই
যে ব্যথা আমাকে অনাহারে রাখে,
যে ব্যথা আমাকে দেয় নির্ঘুম দীর্ঘ রাত।
যে ব্যথা আমার দুনিয়ার সাধ মিটিয়ে দেয়,
যে ব্যথা আমার কঙ্কালেও অনুভব হয়!
আমি কীভাবে ভুলে যাই,
সে ব্যথার উৎস যে মানুষ, সে মানুষকে?
আমি কীভাবে ভুলে যাই,
আমার লাশকে পুনরায় খুন করা মানুষকে!
সস্তা
নিজেকে নিজে নিজে সবাই মূল্যবান মনে করে।
তুমি কি আসলেই মূল্যবান নাকি সস্তা,
তা প্রমাণ করতে কাউকে ভালোবেসে দেখো।
দেখবে, তোমার চেয়ে সস্তা কিছু তুমি আর দেখো নি!
বৈদ্যুতিক পুতুল
সংসার স্বপ্নে তুমি বেঁধে যাও।
অযুক্তির যুক্তিতে চলে যাও বহু দূর।
আমি বিধ্বস্ত হৃদয়ে, তৃষ্ণার্ত দৃষ্টিতে চেয়ে দেখি।
যেন তুমিই বলো থেকে যাও,
ফের তুমিই আবার বলো দূরে যাও।
আমি বৈদ্যুতিক পুতুল, নিয়ন্ত্রণ প্রেমের রিমোটে।
তুমি যেভাবে চাও, আমি সেভাবে নেচে যাই।
নতুন বেদনা না খোঁজা
একাকীত্বে যে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না,
সে হয়তো নিঃসঙ্গতা কাটাবার মানুষ খুঁজবে।
কিন্তু যে একাকীত্বেই বরং স্বস্তি পায়,
সে সঙ্গীর খোঁজে নতুন বেদনা ডাকে না!
সে ইতিমধ্যেই সঙ্গীহীনতায় অভ্যস্ত।
প্রেমের টোপ
তোমার ভালোবাসা বিশাল নদীতে বড়শি ফেলার মতো।
আমি এক বোকা মাছ।
প্রেম ভেবে গিলে নিয়েছিলাম সেই টোপ।
তোমার অবহেলা যেন ছিপে দেওয়া এক হ্যাচকা টান!
আর আমার রুহ বেরিয়ে যায়!
উত্তপ্ত বালুচরে ছিটকে পড়ে ছটফট করি।
সরলতার পরিনাম
আমার জন্যে কেউ কষ্ট পাবে ভেবে কত সংযত থাকলাম।
ডানপাশ থেকে বামপাশে ঘুরে তাকাতেই দেখলাম,
আমি কিসে কষ্ট পাবো কেউ ভাবে না।
কেউ ভাবে না, আমারও ব্যথা অনুভব হয়।
অথচ সরলতার পরিনামে আমিও একটু যত্নের দাবীদার।
বৃথা অনুনয়
কত তিক্ত মহড়ায় আমি তোমার পানে চেয়ে থেকেছি।
দুচোখে তখন অশ্রুর প্লাবন নেমেছিলো।
আমার আয়োজন ছিলো কেবল তোমার সান্নিধ্য!
তাই আমার এত অনুনয়, আমার ব্যাকুল প্রার্থনা!
আর তুমি প্রেমিকা হয়েও সবটুকু বৃথা হতে দিলে?
বাঁচার ইচ্ছে নেই
জীবনের ভারে দেহ নুয়ে পড়ে,
হেঁটে হেঁটে পথ ফুরায় না।
পথের কাঁটায় পা কেটে ছিরিবিড়ি!
কোথায় থামবো, জানা নেই ঠিকানা!
পথে রেখে যাচ্ছি নিজের চিহ্ন, রেখে যাচ্ছি দিশা।
আবার জন্মালে ভুলহীন পথে হেঁটে যাবো সত্যি।
আপাতত ফুরিয়েছে পথচলার সবটুকু নেশা।
নতুন নাম
তুমি সম্পূর্ণভাবে সে নামটা ভুলে গোছানো থেকো!
যে নাম আবছা মুছে গিয়েছিলো বহু আগেই।
না জানি কখন আর কোন নামের গহ্বরে।
না জানি কোন ডাকনামের মাধুর্যতার অন্তরালে।
তবুও তোমার নাম মানিয়ে যাক,
নতুন কোন সুন্দর নামের পাশে।
হাসি গিলা
কত ভালোবাসা তোমার মনে জমা,
তোমার চারপাশ ঘিরে থাকে একদল উন্মুখ হাসি।
তুমি এত আনন্দের উৎস!
তবে আমার প্রহর এত বিষণ্নতায় কাটে কেন বলবে?
আমি যখন দূর হতে চেয়ে দেখি,
আর তুমি তাদের হাসি হও,
আমার অধিকারকে কতবার করেছো এভাবে ম্লান?
সবার সাথে উচ্চস্বরে হাসতে গিয়ে,
আমার হাসি কতবার গিলেছো তুমি?
দুর্ভাগা
আমি এতকাল খুঁজছিলাম,
কে দুর্ভাগ্যের কারণে হেরে যায় বারবার।
আমি খুঁজছিলাম,
কার ক্ষেত্রে জীবনের সূত্র একচুলও ছাড় দেয় না!
এরপর আমি একদিন আয়নাতে আমাকে দেখলাম।
মৃদু হেসে আপন মনে বলে উঠলাম,
আমি আমাকেই খোঁজে এসেছি সমস্ত পৃথিবীতে!
অনন্ত অপেক্ষা
বিকল্প হয়ে বেঁচে রইলাম,
তোমার ফেরার পথ চেয়ে, অনন্ত অপেক্ষায়!
যে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ বিকল্প খোঁজে,
সে দেয়াল আর কতদূর?
হবে কি কভু অনন্ত অপেক্ষার অবসান?
আমি পুরুষ
খোদাকে বললাম,
খোদা, অশ্রুসিক্ত ঝাপসা চোখেও আমি সব দেখতে পারি!
আমি দেখি আমার প্রিয়জনদের না বলা প্রয়োজনগুলোও।
বিশ্রামহীন দিন-রাত আমি পিঠে বয়ে চলি কর্মের ভার,
আবার বুক পেতে সয়ে নিতে পারি,
'আমার জন্য কী করেছ' এমন সব তিক্ততা।
আমি এরপর জিজ্ঞেস করলাম,
খোদা, আমি কীভাবে পারি এত সইতে? আমি কি মানুষ নই?
খোদা স্নিগ্ধ স্বরে উত্তর দিলেন, না! তুমি পুরুষ।
ভালোবাসার পরে
খোলা দুয়ার অতিক্রম করে যতখানি আলো আসে,
আর আসে খানিক তোমার ভালোবাসা।
তুমি গৃহে প্রবেশেই বন্ধ করেছো দুয়ার।
বলেছো, আমার গৃহের জন্যে তুমিই যথেষ্ট।
আলো নেই আজ, তোমাকে দেখি না।
আমি আমাকেও দেখি না।
যা দেখি, কেবল অন্ধকার।
আমার অন্ধকারে হাতড়ানো দেখেও তুমি জ্বলে উঠলে না।
একসময় ছিলো
নেই শব্দে হয়তো অপূর্ণতা প্রকাশ পায়।
কিন্তু একসময় ছিলো শব্দটার পরিধি আরও বৃহৎ!
যেখানে লুকিয়ে থাকে একটা আত্মার চিৎকার!
যেখানে লুকিয়ে থাকে একটা না বলা গল্প।