যুবক হয়ে যাওয়া
গোসল শেষে মা আবার ডাকতো,
চল! ভালো করে মেজে গোসল করিয়ে দেই।
হঠাৎ একদিন থেকে মা আর ডাকলো না।
আর আমি বুঝলাম,
আমি ছেলে থেকে যুবক হয়ে গেছি।
আমি অনেক বড় হয়ে গেছি।
বৃথা যুদ্ধ
একদিন তুমি অন্য কারো হাত ধরলে,
আর আমি পরাজিত হয়ে গেলাম।
এরপর আমি আমার যুদ্ধের সাজ খুলে ফেললাম।
আমি মেনে নিলাম,
আমার ভালোবাসা জেতার শর্ত পূরণ করে না।
বৃথা যুদ্ধে আর কত বিরক্তি হয়ে দাঁড়াবো তোমার দ্বারে?
তাই সরে গেলাম, যেন তুমি আবার বাঁচো।
তুলনা
একটা ধূমপায়ীর গন্ধযুক্ত শার্ট,
আর পরপুরুষের গন্ধযুক্ত নারীর অন্তর্বাস।
একটা সিগারেটে পোড়া কালো ঠোঁট অবশ্যই উত্তম।
যদি তুলনাটা বহু পুরুষের স্বাদ নেওয়া ঠোঁটের হয়।
অন্ধ বিশ্বাস
সৃষ্টিকর্তা বলেছেন,
এই গোটা পৃথিবীটা একটা মশার পাখনার চেয়েও মূল্যহীন।
আমি সেখান থেকেই নিজের হিসেবটা বুঝে নিয়েছি!
তাই নিজেকে আর তেমন ভালোবাসতে পারি নি।
নিজেকে সবার কাছে মূল্যহীন প্রমাণ করতেই,
আমি বেছে নিয়েছিলাম যাকে তাকে অন্ধ বিশ্বাস।
দেনা
কতকিছুর বাহানায় একটা সম্পর্ক হারিয়ে যায়।
কিন্তু প্রতিজ্ঞাগুলো দেনা হয়ে জমা থেকে যায়!
তাই তারা বহুবছর পরেও যদি মুখোমুখি হয়,
কেমন যেন তৃষ্ণার্ত, আহত দৃষ্টিতে ফিরে ফিরে চায়।
হৃদয় যেন তখনও বলতে চাচ্ছে,
কই আমার ভালোবাসার দেনা তো মেটালে না!
বিভ্রম
বেঁচে থাকা বলতে কিছু নেই!
জীবন শুধুই বিভ্রম।
একটা শীতল লাশ,
আর তার চোখে ভেসে উঠা ভয়ংকর কোন দুঃস্বপ্ন।
আলো
অনেক আঁধার পেরিয়ে একদিন আলো আসবে জানি।
কিন্তু ততোদিনে আমি অন্ধকারের বাসিন্দা হয়ে যাবো।
সে আলো আর আমার চোখ সইবে না তখন।
বরং তীরের মতো বিঁধবে চোখে-মুখে!
নিজেকে লুকানো
আমি বরাবরই ভাবতাম,
আমার সামান্য কষ্ট, ক্ষতিতে কারো উপকার হলে হোক।
উপরওয়ালা বোধহয় আমার ইচ্ছেটা কবুল করেছেন।
তাই মানুষ আমাকে যন্ত্রণা দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করে নেয়।
আর আমাকে দিয়ে যায় একটা দুঃখের নদী,
যেখানে নিজের লাশ জমাচ্ছি।
লাশে লাশে একদিন স্তুপ হয়ে দ্বীপ ভাসবে আশায়।
যেখানে আমি নিজেকে লুকিয়ে রাখবো।
প্রতিদান
তুমি এমন একজনকে পুড়িয়েছো,
এমন এক হৃদয় ভেঙে চুরমার করেছো,
যে আজও তোমাকে ছাড়া ভাবতে পারে না।
যে ভাঙা মন নিয়ে উঠে দাঁড়াতে পারে না।
অথচ কী অদ্ভুত তার প্রতিদান!
সে আজও চায় তোমার কপালে চুমু এঁকে দিতে।
সে আজও চায় প্রতিশোধের ছলে তোমাকে দীর্ঘসময় জড়িয়ে ধরতে।
আর তার অভিশাপ?
সে কেবল চায় তোমার বুকে মাথা রেখে সবটুকু যন্ত্রণা ভুলে যেতে।
দূরত্ব বেড়ে গেছে
যে সম্পর্ক মিথ্যে দিয়ে শুরু হয়,
সময়ের সাথে সাথে একদিন সত্যিটা জানা শুরু হয়।
কিছু সত্যি এতোটাই ভয়াবহ হয় যে,
সেগুলো মেনে নেওয়া আর সম্ভব হয় না।
এরপর সম্পর্কটাই এভাবে শেষ হয়ে যায়।
আর আমরা বলি, দূরত্ব বেড়ে গেছে।
সহ্যেই পরিচয়
এতদিনে সহ্য করার একটা অভ্যাস হয়ে গেছে।
এখন নিশ্চুপ হয়ে সহ্য করা বলতে আমি আমাকেই চিনি।
আজকাল কেউ যদি কাউকে বলে,
যা হচ্ছে সহ্য করে নাও, জীবন এমনই।
আমার মনে হয়, আমার হয়ে কেউ কাউকে আমার দলের সদস্য হতে আহ্বান দিচ্ছে!
প্রেমিকের প্রকারভেদ
তুমি বৃক্ষপ্রেমী, আর আমি তোমার অনুরাগী।
সদ্য রোপিত চারা নিয়ে তোমার মনে যে উৎফুল্লতা,
তোমাকে দেখার সুযোগ পেলে আমারও ঠিক তেমনই।
স্বহস্তে রোপণ করা বৃক্ষে ফুল ফুটলে তুমি যে প্রশান্তি খুঁজে পাও,
তোমার কণ্ঠস্বর আমার কর্ণকুহরে পৌঁছালে আমিও ঠিক তেমনটিই পাই।
কিছু স্মৃতি
বন্ধ জানালা হঠাৎ খুলতেই এক ঝটিকা বাতাস ঢুকলো ঘরে।
সাথে নিয়ে এলো তোমার চেনা সেই সুগন্ধ,
আর কানে বাজলো তোমার উচ্চারিত চেনা কোন সুর।
উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখি,
দূরে সেই পুরোনো গাছের তলার মাচাটি।
যেখানে বসে একদা আমাদের গল্পেরা ডানা মেলত।
শত্রু কে
অবনতির কথা জানলে চিরশত্রুও পিছুপা হয়।
ধুঁকে মরবে বুঝে গেলে শত্রুর বন্ধুকের গুলিও ফেরত যায়।
মৃত জেনে গেলে শত্রুও বিনয় দেখায়।
আর যারা প্রিয় মানুষ,
তারা তো যন্ত্রণা দেবার জন্যে খোঁজে নেয় পুরোনো ক্ষত।
কেন জানি
আমার এই প্রেমহীনতা, নিজেকে হারিয়ে খোঁজা।
আমার এই ক্লান্ত দেহ, খুড়িয়ে যাওয়া হৃদয়।
আমার অশ্রু, আমার নির্ঘুম রাত।
সবই তোমাকে বলা, তুমি সবই জানো।
তবুও কেন জানি মনে হয়, তোমাকে বলা হয় নি কিছুই।
তুমি জানো না, আমার কতো তীব্র ব্যথা হয়।
আমার কেন জানি মনে হয়,
আমার ব্যথা জানো না বলেই অবহেলা করো।
আমার বারবার মনে হয়,
যদি এই যন্ত্রণার খবর জানতে,
অবশ্যই আমার যত্ন নিতে, অবশ্যই ভালোবাসতে।
আমার কেন জানি আজও তোমাকে বলতে ইচ্ছে হয়।
মিথ্যে সঙ্গ
তুমি দেখছো, চারপাশে অনেক মানুষ।
অথচ তাদের মাঝে থেকেও একা অনুভব করছো।
আর এটাই সত্যি!
তোমার চোখ শুধুমাত্র সঙ্গ দেখে।
কিন্তু তোমার হৃদয় ঠিকই অনুভব করে ফেলে,
এই সাঙ্গতার পেছনের স্বার্থ আর প্রয়োজন।
তাই তোমার নিজেকে একা অনুভব হয়।
বৃক্ষের প্রতি
হে বৃক্ষ, আকাশে উড়তে থাকা পাখির সাথে তাল মেলাতে যেও না।
পাখির ডানা আছে, আছে উড়বার মতো যুক্তি।
আর তোমার আছে শেকড়, শেকড়েই তোমার শক্তি।
শেকড় আঁকড়ে ধরো।
দেখবে, তুমি পাখির চেয়েও বাঁচবে বেশিদিন।
অভ্যন্তরীণ রহস্য
একজন হাসতে থাকা পুরুষ এবং কান্নায় ভেঙে পড়া নারীর বাহ্যিকতা দেখে কখনোই তাদের প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা যায় না।
উভয়ের মাঝেই লুকিয়ে থাকতে পারে এক অভ্যন্তরীণ রহস্য!
যা পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার বাহিরে।
যেমন রহস্য থাকে কবরে!
মাত্র সাড়ে তিন হাত মাটির নিচের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সাধ্য কারো হয় না।
তেমনই কারো বাহ্যিকতার পেছনের যুদ্ধ কিংবা ছলনাও বাইরে থেকে দেখা যায় না।
পুরুষের জন্ম
জন্মসূত্রে একটা ছেলের জন্ম হতে পারে,
কিন্তু একটা পুরুষের না।
পুরুষ জন্মায় দায়িত্ববোধ থেকে।
যখন তার দায়িত্ব দেখাবার মতো সামর্থ্য থাকে,
তখনই তার পরিচয় সে পুরুষ।
স্বার্থের জন্যে বিবেকের ব্যবহার
নিদারুণ সৃষ্টির মাঝে মানুষ শ্রেষ্ঠ!
আবার মানুষের মাঝেই লোভ-লালসা।
একমাত্র মানুষই অধিকার মেরে খেতে শিখেছে,
একমাত্র মানুষই বিভক্ত হয়ে নিজ জাতির ক্ষতিতে মেতেছে।
স্বার্থের খোরাক একমাত্র মানুষই সঞ্চয় করে,
স্বার্থের জন্যেই ব্যবহার করে বিবেক-বুদ্ধির।
অথচ এই বিবেকের জন্যেই তার শ্রেষ্ঠত্বের তকমা।