সঙ্গ দেওয়া
একটা সঙ্গীহীন পৃথিবী,
একলা একা একাকীত্বের বোঝা বইছে।
চাইলে তুমিও চাঁদ হয়ে সঙ্গ দিতে পারতে।
আমরা শুধুই গল্পের চরিত্র
মাঝে মাঝে নিজেকে বুঝিয়ে নিতে হয়,
মেনে নিতে হয় যা ঘটে সব।
মেনে নিতে হয় এই ভেবে,
গল্পের চরিত্র কখনো গল্প নির্ধারণ করে না।
বরং লেখকই নির্ধারণ করেন,
চরিত্রের সাথে কখন কি ঘটবে!
কেমন হবে গল্পের সমাপ্তি।
তোমাকে কীভাবে কিনি
তোমার পাড়ায় উৎসব,
আমার পাড়ায় তখন মহামারী।
আমার মন কাঁদে তোমার অনুপস্থিতিতে,
তোমার মনে তখন পাতানো আড়ি।
আমার মনের ঔষধ তুমি,
কীভাবে তোমাকে কিনি বলো?
আমার নেই যে কোন টাকা-কড়ি!
নিয়মেই সম্পর্ক
সম্পর্ক কখনো দ্বিপদী সুত্র অনুসরণ করে না।
সম্পর্কের ভিত্তি হলো নিয়ম।
যে বন্ধনে নিয়ম নেই, সেখানে স্থায়িত্ব নেই।
তাই নিয়ম মেনে নিতে না পারা মানেই হলো,
স্বেচ্ছায় সম্পর্কের বিচ্ছেদকে আলিঙ্গন করা।
আমার আমিই থাকি
বন্ধুদেরও নতুন বন্ধু থাকে,
প্রিয় মানুষের থাকে নতুন প্রিয় মানুষ।
কিন্তু আমার আমি ছাড়া কেউ থাকে না!
আমার বলতে শুধু আমিই থাকি।
আমরাই ঘর
যতখানি স্বপ্ন নিয়ে বড় হই,
তারও অধিক দুঃস্বপ্ন বয়ে বেড়াতে হয়।
যতখানি সুখ খুঁজি, সুখে থাকতে চাই।
তারও অধিক বিষাদ পোহাতে হয়।
যদি মুক্তি চাই, তাও সম্ভব নয়!
জীবন আমাদের বানিয়ে দেয় ঘর,
যার নিজের বুকে লালন করতে হয় সংসার।
যার ক্লান্তি নেই, মুক্তিও নেই!
ভালোবাসি শব্দ
ভালোবাসি শব্দের মাঝে কেমন যেন এক রহস্য লুকিয়ে থাকে।
যে ভালোবাসে না, শুধুই প্রয়োজন বানায়,
সে মানুষও বলতে পারে, ভালোবাসি।
আবার যে নিজেকে বিলীন করে দেয়,
কল্পনার চেয়েও বেশি ভালোবাসে।
সে মানুষও বড়জোর ভালোবাসি পর্যন্তই বলতে পারে।
ভালোবাসি শব্দে এর চেয়ে বেশি কিছুই প্রকাশ করা যায় না।
যার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে ভালোবাসা,
কিংবা ধ্বংসাত্মক ছলনা!
প্রেমের জুয়ারি
তোমার ভালোবাসার মাঝে একটা জীবন্ত রাক্ষস বসে আছে!
আমি তাকে জানি বিলুপ্তি পরিচয়ে।
তোমার মায়ার মাঝেও লুকিয়ে আছে একটা অশরীরী!
যে আমাকে ভর করে, তোমার কাছে কোথাও নিয়ে যায়।
তোমার মাঝেও লুকিয়ে আছে নেশা!
আর আমি মাতাল হই।
মাঝে মাঝে নিজে নিজেই চলে যাই তোমার কাছে।
তোমার দিকে ছুটে চলার আমার একটা অভ্যাসও আছে।
যেমন হেরে যাওয়ার শঙ্কা নিয়েও জুয়ারি বাজি ধরে।
আর আমি প্রেমের জুয়ারি!
তোমার প্রেমে বাজি রেখেছি নিজের জীবন।
বিনাশের পথ
কাঁধে তুলে খাটিয়া, দেখি লাশটাও আমার!
আমি একটুও অবাক হই নি।
আমি আমার কর্মতেই নিশ্চিত করেছিলাম,
আমি বিনাশের পথে হেঁটেছি!
ধ্বংস অনিবার্য
নিষ্পাপ চাহনিতে যতোটা ঘৃণা লুকিয়ে রাখো,
ততোটা ঘৃণা কোন পাত্রে রেখে পান করলেও আমি ধ্বংস হয়ে যেতাম।
আর তুমি তো ধ্বংস করেছো ধীরেসুস্থে।
ভালোবেসে, হাতে হাত রেখে কিংবা কপালে চুমু এঁকে।
এতটুকুও না করতে যদি!
ধ্বংস আমি আরও আগেই হয়ে যেতাম।
যদি তুমি সত্যিই এই ঘৃণা চোখে নিয়ে তাকাতে।
এতো প্রকান্ড ঘৃণার স্তুপে ধ্বংস আমার অনিবার্যই ছিলো।